ফুলবাড়ীয়ায় কবরস্থান কেটে ফিসারি তৈরীর অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের পুরনো ও চলমান কবরস্থান কেটে ফিসারি বানানোর অভিযোগ উঠেছে। কবরস্থান সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, কৃষ্ণপুর গ্রামে ১৯৬৫ সালের পুরনো মল্লিক বাড়ি কবরস্থান। যাতে মল্লিক বংশের মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিদেরকেও দাফন কার্য সম্পন্ন করা হতো। সম্প্রতি প্রতিবেশী নেকবর আলীর ছেলে মো. শওকত ও তার সহোদর জয়নাল পেশী শক্তির দাপটে কবরস্থান কেটে ফিসারি তৈরী করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কবরস্থানের দু’দিক দিয়েই ফিসারি খনন করা। কবরস্থানের উচু জমিতে গরুর খামারের জন্য নেপিয়ার জাতীয় ঘাস আবাদ করা হয়েছে। চতুর্দিক বাশের বেড়া দিয়ে আটকানো। কবরস্থান প্রায় অনেকটাই অস্তিত্বশূন্য। এটি স্থানীয়দের মাঝে মল্লিক বাড়ি গোরস্থান (কবরস্থান) নামে পরিচিত।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, কবরস্থানের জমিসহ আরও বেশ কিছু জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে দর্ঘিদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। তবুও শক্তির দাপট ও প্রভাব দেখিয়ে চলমান কবরস্থান কেটে প্রথমে ছোট্ট পুকুর ও পরবর্তীতে বড় ফিসারি তৈরী করেছেন।
ইব্রাহিম মল্লিক বলেন, প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের পূর্বপুরুষদের গোরস্থানসহ জমিজমা বেদখল করে রেখেছে। এখন তারা আমাদের কাউকে গোরস্থানে যেতে দেয়না, মাটি দিতেও বাধা দেয়। তাঁরা গায়ের জোরে গোরস্থান কেটে ফিসারি বানাইছে।
আব্দুল হাকিম বলেন, আমার বাবা মাকে এই গোরস্থানে দাফন করেছি। পুরনো এই গোরস্থানে অনেক মানুষকে দাফন করা হয়েছে। একজন মুসলমান হয়ে কীভাবে চলমান গোরস্থান কেটে ফেললো তা বুঝে আসে না।
ষাটোর্ধ্ব আশরাফ আলী ও এমদাদুল হক বলেন, ছোট্ট বেলা থেকেই দেখছি এই কবরস্থান। এটি মল্লিকদের কবরস্থান। তাদের বংশধরদের এইখানে দাফন করেছেন। পুরনো কবরস্থান কেটে ফিসারি বানিয়ে অন্যায় করেছেন। এটা কোনভাবেই ঠিক করে নাই।
মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, শওকত ও জয়নালদের সাথে জমি নিয়ে আমাদের মামলা চলমান। আদালত থেকে আমরা একটি রায়ও পেয়েছি। ৩-৪ মাস আগে আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে কবরস্থান কেটে ফিসারি বানাইছে। একজন মুসলমান ও মল্লিক বংশের উত্তরাধিকার হিসেবে কবরস্থান রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত শওকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের উপর জেদের বশবর্তী হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমি অমানুষ নই, কবরস্থান কেটে ফেলবো কিংবা কাউকে মাটি দিতে বাঁধা দিবো না এটি মোটেও সত্য নয়।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।