Logo
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
mhpress24.com
QR Code
খবরটি পড়তে স্ক্যান করুন

সন্তানের অনলাইন ক্লাসে অভিভাবকের ভূমিকা

তানজিদ শুভ্র

স্কুল কলেজের পড়াশোনা এখন অনেকটাই ডিভাইসনির্ভর। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রজেক্ট জমা দেওয়া, সবকিছুতেই ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন লাগছে। এ কারণে ছেলেমেয়েদের হাতে গ্যাজেট তুলে দেওয়া ছাড়া অভিভাবকদের আর কোনো উপায়ও নেই। কিন্তু মুশকিল হলো ক্লাস শেষ হওয়ার পরও স্ক্রিন থেকে তাদের চোখ সরতে চায় না। পড়াশোনার প্রয়োজনে দেওয়া ডিভাইস কখন যে আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে, তা অনেক সময় বোঝাই যায় না। এই ডিজিটাল যুগে সন্তানদের প্রযুক্তি থেকে একেবারে দূরে রাখাও সম্ভব নয়, আবার সারাদিন স্ক্রিনে ডুবে থাকতে দেওয়াও ঠিক নয়। এই ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

ডিভাইস ব্যবহারের নির্দিষ্ট রুটিন
সন্তানের হাতে ফোন বা ল্যাপটপ তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তাদের ক্লাস বা পড়াশোনার জন্য ঠিক কতক্ষণ ডিভাইস প্রয়োজন, তার একটি ধারণা থাকা দরকার। ক্লাসের রুটিন অনুযায়ী ডিভাইস ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে দিন। ক্লাস শেষে ফোন বা ল্যাপটপ সরিয়ে রাখা ভালো। তবে এই কাজটি জোর করে বা বকাঝকা করে না করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। স্ক্রিন টাইম কেন কমানো জরুরি, তা তাদের বয়সের উপযোগী করে বুঝিয়ে বলাটা অনেক বেশি কাজে দেয়।

পড়ার জায়গা হোক সবার সামনে
অনলাইন ক্লাস করার জন্য ঘরের এমন একটি জায়গা বেছে নিন, যেখানে সবার যাতায়াত আছে। বসার ঘর বা ডাইনিং টেবিলের এক কোণে বসে ক্লাস করা সবচেয়ে ভালো। দরজা বন্ধ করে নিজের ঘরে একা একা ক্লাস করতে দিলে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। খোলা জায়গায় বসে ক্লাস করলে অভিভাবকরাও নিজেদের কাজের ফাঁকে খেয়াল রাখতে পারেন সন্তান আসলেই ক্লাস করছে কি না। এতে পড়াশোনার বাইরে অন্য কিছু করার সুযোগ কমে যায়।

স্ক্রিনের বাইরে বিকল্প কাজের ব্যবস্থা
সন্তানের কাছ থেকে ডিভাইস সরিয়ে নেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। গ্যাজেট ছাড়া তারা কী নিয়ে সময় কাটাবে, সেই বিকল্পটাও তাদের দিতে হবে। ক্লাস শেষে তাদের মাঠে খেলতে পাঠানো যেতে পারে। যাদের সেই সুযোগ নেই, তাদের জন্য ছবি আঁকা, গল্পের বই পড়া, ছাদে বাগান করা বা ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা করা যায়। ছুটির দিনে পুরো পরিবার মিলে কোথাও ঘুরে আসা বা দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে তাদের যুক্ত করলে তারা আনন্দ পাবে। স্ক্রিনের বাইরের পৃথিবীটাও যে অনেক মজার, সেটা তাদের অনুভব করার সুযোগ করে দিতে হবে।

নিজেদের অভ্যাস বদলানো
শিশুরা সবসময় বড়দের দেখেই শেখে। আপনি যদি অবসর সময়ে সারাক্ষণ ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকেন, তবে সন্তানও সেটাই অনুকরণ করবে। তাই তাদের স্ক্রিন টাইম কমানোর আগে নিজেদের ফোন ব্যবহারের পরিমাণও কিছুটা কমাতে হবে। অন্তত খাবার টেবিলে বা পরিবারের সবাই যখন একসঙ্গে বসে গল্প করছেন, তখন ফোন দূরে রাখার অভ্যাস করুন। আপনাদের দেখেই তারা শিখবে কখন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয় আর কখন তা থেকে দূরে থাকতে হয়।

প্রযুক্তি এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে বাদ দিয়ে চলা কঠিন। সন্তানদের শুধু ভয় না দেখিয়ে, প্রযুক্তির সঠিক ও পরিমিত ব্যবহার শেখানোই এখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় অভিভাবকত্ব।