মুক্তাগাছায় আন্দালিব সালমান রাফির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মাদ্রাসা ছাত্র আন্দালিব সালমান রাফির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজনসহ শতাধিক ছাত্র-জনতা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১০টার দিকে মুক্তাগাছা থানার সামনে রাফির শিক্ষক, স্বজন ও স্থানীয় ছাত্র-জনতা মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় এলাকাবাসীসহ শতাধিক ছাত্র-জনতা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত রাফির চাচা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মো. এমদাদুল হক, ইমাম মুফতি আল-আমিন মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের ছাত্রনেতা ইমামুল মুত্তাকীনসহ আরও অনেকে।
প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী এসব কর্মসূচি পালনের পর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত খোকনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদক ও জুয়া নির্মূলে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, “মাদ্রাসা ছাত্র রাফির নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকা শোকাহত। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন রাফির পরিবারের পাশে থাকবে।”
এর আগে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হাবিবুল হক শরীফ। এ সময় বক্তব্য রাখেন রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার পরিচারক আজিজুল হাকিম শাহীন, অ্যাডভোকেট নাজমুর হক, প্রিন্সিপাল মো. শামিম, শিক্ষক আফাজ উদ্দিন, শামিম, আবু নোমান, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তুহিন ও রফিকুল ইসলাম।
গত ৯ মে (শনিবার) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া জমিনপুর এলাকায় ঘাতক খোকনের বাড়ির পাশের বাথরুমের সেফটি ট্যাংক থেকে পুলিশ রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আন্দালিব সালমান (রাফি)-এর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একই এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে খোকন (২১)-কে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।