MH Press 24
Logo
জাতীয়

গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কী পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে কার্যকর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?

এমএইচ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ June ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
কপি হয়েছে!

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ফুলবাড়ীয়া আসনের এমপি অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন অর্থ মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কী পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে কার্যকর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?

জবাবে অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ অত্যন্ত গোপনী তার সাথে বিভিন্ন জটিল পদ্ধতি অবলম্বন করে বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকে এবং এ বিষয়ে দেশে বা বিদেশে সঠিক, পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদনের অভাবে বাংলাদেশ থেকে কি পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে তার প্রকৃত ও সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। এ অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ বাংলাদেশের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপির ৩.৪%; রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের এক-পঞ্চমাংশ বা ২০%; বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয়ের প্রায় ১১.২%; নীট বৈদেশিক সহায়তা এবং এফডিআই প্রবাহের প্রায় দ্বিগুণ।

এ অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ : বাংলাদেশ হতে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং ভবিষ্যতে অনুরুপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এর সভাপতিত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইস চিহ্নিত করা হয়। কেইস সমূহ হলো: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জনাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, নাবিল গ্রুপ, এইচবিএম ইকবাল এবং সামিট গ্রুপ।

MH Press Advertisement

উক্ত মামলাসমূহ অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (Joint Investigation Team-JIT) গঠন করা হয়। JIT গঠনের পর ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭৬ হাজার ৮ শত ১৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সংযুক্ত (Attachment) ও অবরুদ্ধ (Freezing) করা হয়েছে।

দেশের আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশে ২৩টি Mutual Legal Assistance Request (MLAR) প্রেরণ করা হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪২টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে এবং ০৬টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।

বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্ত:সংস্থা টাস্কফোর্স এবং যৌথ তদন্ত দলের সমন্বয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিএফআইইউ এর অধীনে Stolen Asset Recovery Division গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম দক্ষ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের অনুসরণে বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিদেশে অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদেশী রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: International Anti-Corruption Coordination Centre (IACCC), Stolen Asset Recovery (StAR) Initiative of the World Bank and the United Nations Office on Drugs and Crime, International Centre for Asset Recovery (ICAR) এবং U.S. Department of Justice (USDOJ)। এছাড়া পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যকর তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Global Operational Network of Anti-Corruption Law Enforcement Authorities (GlobE Network) এবং Asset Recovery Interagency Network-Asia Pacific (ARIN-AP) এর সদস্যপদ অর্জন করেছে।

ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলার পাশাপাশি দেওয়ানী (সিভিল) পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরপূর্বক ৯টি আন্তর্জাতিক আইনী প্রতিষ্ঠানকে No Win No Fee শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি কেইসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬টি কেইস (সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস. আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা এবং ওরিয়ন গ্রুপ) নিয়ে দেওয়ানী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃক অর্থ পুনরুদ্ধারের এ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা রয়েছে।

Fulbaria ITI Advertisement