Logo
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
mhpress24.com
QR Code
খবরটি পড়তে স্ক্যান করুন

ময়মনসিংহে ২০২৬ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের সক্রিয় অংশগ্রহণে করণীয় তুলে ধরল রূপসা

মোবাস্বির হোসাইন

বাংলাদেশ ২০২৬ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার চলমান সুযোগসমূহ নিয়ে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলন করেছে রূপসা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নগরীর আকুয়া বাইপাস এলাকায় রূপসার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা খাতুন, প্রোগ্রাম অফিসার পূজা রানী বিশ্বাস এবং কমিউনিকেশন অফিসার রবিউল সিকদার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিসেবে কাজ করেছে রূপসা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহযোগিতায় পরিচালিত এ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে দেশের ২৫টি সংসদীয় আসনের ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ জন প্রশিক্ষিত নাগরিক পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করেন।

রূপসার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হলেও তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপদ নির্বাচনী সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা অর্জন করা সম্ভব। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সময়মতো খুলেছে, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট দিতে পারলেও সবসময় সমান সুযোগ, পর্যাপ্ত তথ্য এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন না। অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথমবারের মতো গণভোট সংক্রান্ত তথ্য জানতে পেরেছেন, যা ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমে ঘাটতির প্রতিফলন।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৯৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে মাত্র চারজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া সংখ্যালঘু নারী প্রার্থীর সংখ্যাও ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

রূপসা মনে করে, এই ব্যবধান দূর করতে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজকে জরুরি ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার, সংখ্যালঘু ভাষায় নির্বাচনী উপকরণ প্রণয়ন, রাজনৈতিক দলে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সহজপ্রাপ্য অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী নাগরিক সংলাপ সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রূপসা পুনর্ব্যক্ত করে যে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর সঙ্গে সম্পৃক্ততামুক্ত। সংগঠনটি মনে করে, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার করা বাংলাদেশের সমান নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।